মাত্র দু-বছর দরকার। তারপরেই দেখা যাবে বৈভব সূর্যবংশীকে ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়ে খেলতে। এমন ভবিষ্যদ্বানী করলেন স্বয়ং অশোক কুমার। কে অশোক? যিনি কিনা সূর্যবংশীকে কোচিং করিয়ে আজ সারা বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত করে তুলেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, কম বয়সেও ভাল খেলা সম্ভব যদি ঠিকঠাক ক্রিকেটিয় পাঠ নিতে পারে। কোনও সন্দেহ নেই, রাজস্থান রয়্যালসকে এবারের আইপিএলে মনে রাখার কথা নয়। কিন্তু সকলে রাজস্থান দলকে নিয়ে এখনও উত্তাল। তার কারণ একটাই, বৈভব সূর্যবংশীর মারমুখী মেজাজের ব্যাটিং। মাত্র সাতটা ইনিংস খেলে করেছেন ২৫২ রান। সবচেয়ে বড় কথা গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন। তাছাড়া চেন্নাই সুুপার িকংসের বিরুদ্ধে দুরন্ত হাফ সেঞ্চুরি এবারের আইপিএল দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। এবার সূর্যবংশীর সামনে অন্য লড়াই। যেখানে তঁাকে লড়তে হবে ভারতের হয়ে। জুন-জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল খেলতে নামবে। সেই দলে রয়েছেন সূর্যবংশী। তাই এখন সেদিকেও সকলের নজর থাকবে স্রেফ বিহারের ক্রিকেটারকে ঘিরে। কিন্তু তার আগে এক সাক্ষাতকারে তঁার কোচ অশোক কুমার জানিয়ে দিলেন, আগামী দু-বছরের মধ্যে নাকি দেখা যাবে তঁার ছাত্রকে ভারতের সিনিয়র দলে খেলতে। শুধু প্রয়োজন ফিটনেস আর ফিল্ডিংয়ে নজর দেওয়া।
“আপনারা আজ দেখছেন। আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। জানি কীভাবে একাই দলকে জিতিয়ে আনতে পারে। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে দেখিয়ে দিয়েছিল, একটা দলকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যেতে হয়। দ্রাবিড় ও বিক্রম রাঠোর স্যার তাকে আরও ক্ষুরধার করে তুলেছেন। উন্নতি ঘটিয়েছে ব্যাটিংয়ে। মাত্র তিন মাসের প্র্যাকটিশে নিজেকে ভালমতো তৈরি করতে পেরেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যট করার মানসিকতা এসে গিয়েছে।” বলছিলেন অশোক। পরমুহূর্তে তঁাকে বলতে শোনা যায়, “এই দিকগুলো উন্নতির দরুন বোঝা যাচ্ছে তার ভবিষ্যত্্ উজ্জ্বল। আমার ভবিষ্যদ্বাণী হল, যদি ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে উন্নতি ঘটাতে পারে তাহলে আগামী দু-বছরের মধ্যে সিনিয়র টি-২০ ভারতীয় দলে তাকে দেখা যাবে। কেউ আটকাতে পারবে না।” অশোক কুমার মনে করছেন, ভারতীয় বোর্ড চায় এই ধরনের ক্রিকেটারকে তুলে আনতে। যেহেতু বর্তমান টি-২০ দলে দু-চারজন বাদ দিলে বাকিদের বয়স ২৫ বছরের কম।
এখন সকলে তাকিয়ে আছেন ইংল্যান্ড সফরে বৈভব কী করেন সেই দিকে। ভারতীয় অনুর্ধ্ব-১৯ দল ৫০ ওভারের একটা ম্যাচে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি হবে। তারপর দুটি দেশ মুখোমুখি হবে পঁাচটা একদিনের সিরিজে। তাছাড়া একাধিক দিনের দুটো ম্যাচ হওয়ার কথা। ইংল্যান্ডের পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পূর্ন আলাদা। ২০২৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হবে। তারই প্রস্তুতি সারতে ভারত গিয়েছে ইংল্যান্ড সফরে। “আমার স্থির বিশ্বাস, ইংল্যান্ডে ভাল খেলবে বৈভব। বর্তমান তার খেলার স্টাইল ও আত্মবিশ্বাস দেখে তেমনই মনে হচ্ছে। পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। অন্যদের থেকে এখানেই তাকে আলাদা করে দেয়। ছোটবেলা থেকে এভাবেই খেলে খেলে সে অভ্যস্থ। তাই আমার স্থির বিশ্বাস, আগামী ম্যাচগুলোতে একইরকম মনোভাব নিয়ে তাকে খেলতে দেখব।” বলছিলেন সূর্যবংশীর কোচ। আরও বেশি অশোক কুমারকে ভরসা জুগিয়েছে বৈভবের কথপোকথন। আইপিএল চলাকালীন একবার কথা বলেছিলেন ছাত্রের সঙ্গে। তখনই বুঝেছিলেন ছাত্রের মনোবল কোথায় গিয়ে পৌছে গিয়েছে। বিশেষ করে যখন সূর্যবংশী যখন তঁাকে বলেন-স্যার ম্যায় ইন্ডিয়া খেল কে হি রাহুঙ্গা (আমি যে কোনও মূল্যে একদিন ভারতের হয়ে খেলব।)। এই প্রথম যে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের হয়ে খেলতে গিয়েছেন সূর্যবংশী গিয়েছেন তা নয়। অতীতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে গিয়ে ৫৮ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। পরে এশিয়া কাপে খেলেছেন। তাই এবার দলীপ ও দেওধর ট্রফিতে যদি তঁাকে ডাকা হয় তাহলে তিনি আদৌ অবাক হবেন না।
সিএসকের বিরুদ্ধে খেলার আগে সূর্যবংশীকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন অশোক কুমার। তঁার মূলত পরামর্শ ছিল ধৈর্য্য ধরে খেলতে হবে। তাছাড়া শট নির্বাচন যেন সঠিক হয়। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিএসকের বিরুদ্ধে খেলার আগে দু-তিনটে ম্যাচে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। তার কারণ, শট নির্বাচন ঠিক না হওয়া। “আমি ফোনে তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম, তুমি একাই কিন্তু ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখ। তার প্রতু্যত্তরে সূর্যবংশী বলেছিল, আমি এটা করবই। সেদিন অশ্বিনের বলে আউট হয়েছিল। একটু যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন সরাসরি সামনে বলটা খেললে এভাবে আউট হত না।”পরমুহূর্তে অশোককে বলতে শোনা যায়, “ধোনির পা স্পর্শ করে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছে। এই ধরনের ছেলে হল সূর্যবংশী। সিনিয়রদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিতে কুন্ঠাবোধ করে না। আমার ধারণা, যত বেশি আশীর্বাদ পাবে ততই তার ভবিষ্যত্্ উজ্জ্বল হতে বাধ্য। ততই তার জীবনের মঙ্গল হবে।” গুরুজনের মতোই ছাত্রকে পরামর্শ দিতে দেখা গেল অশোক কুমারকে।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






