এটা ঘটনা। ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে সাফল্য নেই বিরাট কোহলির। তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং করেছেন। তবে গতবছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট সিরিজে তিনি রান পাননি। শুরুটা ( একটা সেঞ্চুরি) দারুন করেও হারিয়ে যান। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে বারবর আউট হয়েছেন। এমন পারফরম্যান্সে বিরক্ত হয়ে নিজেই সতীর্থদের বলেছিলেন, আর নয়। আমি আর টেস্ট সিরিজ খেলব না। তাঁর কথা শুনে সতীর্থরা ভেবেছিলেন, বিরাট বুঝি মজা করছেন। দেশে ফিরে এ নিয়ে আর কথা হয়নি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সকলে ভুলে গিয়েছিলেন টেস্ট সিরিজ নিয়ে বিরাটের পুরনো কথা।
এরই মাঝে ইংল্যান্ড সিরিজ চলে এল। তখনও নিজেকে নিয়ে সেভাবে ভাবেননি। রোহিত অধিনায়ক হয়ে ইংল্যান্ড যাবেন। এটা যেমন রোহিত ভেবেছিলেন, তেমনই বিরাটের মনে হয়েছিল এই সিরিজে নিজেকে যাচাই করা। কিন্তু সব কিছু গোলমাল হয়ে গেল। নির্বাচকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসে টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে রোহিতকে অধিনায়ক করা হবে না। এবার নতুন একজন অধিনায়ককে দরকার। তরুন ক্রিকেটার হলে ভাল হয়। আগামিদিনে সে দলকে টেনে নিয়ে যাবে। এই খবর বাইরে আসার পর রোহিত বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে নিজের ভবিষ্যত পড়ে নিতে চান। বুঝে যান এ ব্যাপারে বোর্ড হাত গুটিয়ে থাকছে। আর তখনই অবসরের সিদ্ধান্ত।
এটা সবাই এতদিনে জেনে গিয়েছেন। বিরাটের ক্ষেত্রেও ঘটনা অনেকটা একইরকম। নির্বাচকরা চাইছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজে বিরাটকে দেখে নেওয়া হবে। রান পেলে ভাল, নইলে ইংল্যান্ড সিরিজের পর জানিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে নিয়ে কিছু ভাবা হচ্ছে না। রোহিতের সঙ্গে কথা বলার পর পর্দার আড়ালে থাকা অনেক কিছু বিরাটের সামনে আসে। তিনিও ঠিক করেন, এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। টেস্ট ক্রিকেট খেলার দরকার নেই। তারপর ইমেল করে বোর্ডকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেন।
এই মেল পাওয়ার পর টনক নড়ে বোর্ডের। রোহিত বেরিয়ে গিয়েছেন। বিরাটও চলে গেলে দল চাপে পড়বে। মিডলঅর্ডারে দলের হল ধরবেন কে! তরুন ক্রিকেটারদের উপর কতটা ভরসা করা যায়! তাই বিরাটকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বলা হয়। নতুন করে ভাবতে বলা হয়। এটাও শোনা যায়, বিরাটকে রাজি করাতে বোর্ড একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের সাহায্য নিতে চলেছে। যাঁর কথা শুনে বিরাট নতুন করে ভাবতে বসবেন। তিনি কে! হ্যাঁ, শচীন তেন্ডুলকরকে এই কাজে লাগাবার কথা ভাবেন বোর্ড কর্তারা। সেটা কি সম্ভব হবে! শচীনের কথা শুনে বিরাট আবার নিজেকে নিয়ে ভাবতে বসবেন! মনে হয় না। সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে বিরাটকে একবার বললে তিনি দেশের কথা ভেবে একটা সিরিজ খেলে দিতেন। কিন্তু কেন তিনি খেলবেন। নির্বাচকদের মিটিংয়ে যখন বিরাট নিয়ে অন্য ভাবনায় তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন তো একবার কথা বলে নিতে পারতেন। বলতেই পারতেন বিরাট তোমাকে নিয়ে আমরা এমন ভাবনা ভেবে রেখেছি। তোমার কি মত আমাদের জানাও। সেটা তাঁরা করেননি। কিন্তু ক্রিকেটারদের নিয়ে মিটিংয়ের কথা বাইরে আসতে দেরি হয়নি। এখন কেন তাঁকে নিয়ে টানাটানি!
রোহিতকে যে কারনে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়, সেই একই কারনে বিরাটকেও বাইরে রাখা যায়। ইংল্যান্ডের মাঠে বিরাট এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ১৭টি ম্যাচ। রান করেছেন ১০৯৬। গড় ৩৩.২১। দুটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। সেরা ইনিংস ১৪৯। শেষ সিরিজে (২০২১) বিরাট পাঁচ ম্যাচে করেছেন ২৪৯ রান। গড় ২৩.৬৬। পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডে বিরাটকে দারুন সফল ক্রিকেটার বলা যায় না। তা হলে তাঁকে নিয়ে এত টানাটানি কেন! নির্বাচকদের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্ট সামনে তাকাতে চান। সেটাই তাঁরা করুন। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে নিয়ে নিজেদের উপরও চাপ বাড়াবার দরকার নেই। তরুনদের সামনে ছাতা চাঁরা নিজেরা ঘোরাতে পারবেন। তাই এখন বিরাটকে দলে নিতে এত জোরাজুরি কেন! এর তো কোনও কারন দেখা যাচ্ছে না।







