টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই তারকার অবসর নিয়ে কথা হয়নি। কেন সরে গেলেন, এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব ঝড় তোলেনি। বাকি দুটি ফরম্যাটে আরও বেশি করে মন দিতে পারবেন বলে রোকো সরে গেলেন, এটাই সবাই ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে যে পালাবদল শুরু হয়ে গেল, তারপর ক্রিকেট বিশ্ব থেমে থাকেনি। হ্যাঁ, প্রথমে রোহিত সরে দাঁড়ালেন। পাঁচদিনের মধ্যে বিরাট কোহলি। এবার শুধু ঝড় নয়, সাইক্লোন শুরু হয়ে গেল।
ভারতীয় ক্রিকেটে রোকো বলতে সবাই রোহিত শর্মা, ও বিরাট কোহলিকে জানেন। সেই রোকোকে এখন থেকে সাদা জার্সিতে খেলতে দেখা যাবে না। কেন তাঁরা অবসর নিলেন, এর ব্যাখ্যা কোথাও নেই। একটা রহস্য তৈরি করে তাঁরা সরে গেলেন। এটা ঘটনা যে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সহমত বোর্ড কর্তাদের। কেউ একজন এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে হয়তো এত কিছু ভারতীয় ক্রিকেটে হত না। কিন্তু সবাই হাত গুটিয়ে নিলেন। সব থেকে অবাক লাগে এটা দেখে যে দুই ক্রিকেটরের অবসরের পর তাঁরা টুইট করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। একজনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কেউ কিছু জানেন না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। সব থেকে ভাল জায়গায় নিজেদের দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছেন বোর্ড কর্তারা। তাঁর বলছেন, কোনও ক্রিকেটার অবসর নিতে চাইলে বোর্ড বাধা দেয় ন। কারন অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর নিজের উপর নির্ভর করে।
একথা সবাই নিশ্চয় মেনে নিতে শুরু করেছেন যে কে বা কাঁরা এই কলকাঠি নেড়েছেন। এটা আর বলা যেতে পারে ওপেন সিক্রেট। আলাদা করে বলার দরকার নেই। ফলে তাঁদের জমানায় ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপে রোকো-কে খেলতে দেখা যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। বড় জোর একবছর তাঁরা একদিনের ক্রিকেটে থাকবেন। তারপর তাঁদের দল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। তখনও হয়তো এভাবেই তাঁরা নীরবে সরে দাঁড়াবেন। এর কারন কেউ জানতেও পারবেন না।
জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর এ প্রসঙ্গে বলছেন, আমার মনে হয় না ২০২৭ একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রোহিত বিরাটকে খেলতে দেখা যাবে। রোহিতের বয়স এখন ৩৮। বিরাট আগামি নভেম্বরে ৩৭ বছরে পা দেবে। তার অর্থ ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় রোহিত ৪০ এ পা দেবে। বিরাট ৩৮ পার করবে। এই বয়সে নিজেদের ধরে রাখা সহজ হবে না। এটা করতে গেলে আগামি বছর একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে যেতে হবে। সেট সম্ভব হবে কিনা বলতে পারব না। তাই আমার কাছে পুরো ব্যাপারটি অনিশ্চয়তায় ঘেরা মেঘ বলে মনে হচ্ছে।
গাভাসকরের কথায় পরিস্কার, আগামি একদিনের বিশ্বকাপে তিনি রোহিত ও বিরাটকে দেখছেন না। আরও একটি কারন আছে। আগস্টে সম্ভবত বাংলদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল একদিনের ক্রিকেট সিরিজ খেলবে। সেখানে ব্যাটে রান না এলে কথা শুরু হয়ে যাবে। পরের সিরিজে একই ঘটনা ঘটলে রোহিতদের জানিয়ে দেওয়া হবে, তেমর জায়গা ছেড়ে দাও। এবং সেটা অনেক অঙ্ক কষে হবে। রোহিত এখনও একদিনর ক্রিকেটে অধিনায়ক। তাঁর হাত থেকে নেতৃত্ব নিয়ে নেওয়া হলে বোঝা যাবে ম্যানেজমেন্ট তাঁকে চাইছে না। রোহিত নিজে সরবেন। যেমন টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরলেন। বিরাটের কাছেও ছবি পরিস্কার হয়ে যাবে। তিনিও হয়তো একই পথে হাঁটবেন।
আরও একটি সমস্যা আছে। টি২০ ক্রিকেটে তাঁরা নেই। টেস্ট খেলবেন না। শুধু একদিনের ক্রিকেটে মন লাগানো সহজ হবে না। প্র্যাকটিসের অভাবে নিজেদের ছন্দ নষ্ট হয়ে যাবে। আর তার ছাপ পডবে পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে। তখন কি এই মেজাজে খেলতে পারবেন! তাই ২০২৭ বিশ্বকাপ অনেক দূরের পথ। তার অনেক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাবেন রোকো।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






