এই শর্মা হলেন রাজকুমার শর্মা। বিরাট কোহলির ছেলেবেলার কোচ। দশ বছর বয়স থেকে শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেটে মেগাস্টার বিরাট। অনেকেই ছেলেবেলার কোচকে ভুলে যান। মনে রাখতে চান না। কিন্তু বিরাট অন্যজাতের মানুষ। এখনও রাজকুমারকে নিয়ে তিনি নানা মহলে কথা বলেন। বিদেশে তাঁর খেলা দেখার জন্য সব ব্যবস্থা করে দেন। দিল্লিতে থাকলে প্রায়ই রাজকুমারের ক্যাম্পে গিয়ে ছোট বাচ্চাদের উৎসাহ দেন। তাঁদের সঙ্গে মাঠেও নেমে পড়েন। এসব থেকে বোঝা যায় যে কোচের সঙ্গে বিরাটের সম্পর্ক এখও অটুট আছে।
তো সেই রাজকুমার এখন কি বলছেন! বিরাটের অবসরে মানসিক দিক থেকে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন। অনেকের মতো তাঁর কাছেও কোনও আভাস ছিল ন। তবে বিরাটের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সন্মান করেন। স্যালুট জানান। বলছেন, ও যা করে তাতে আমার সব সময় সায় থাকে। জানি হঠাৎ করে কোনও সিদ্ধান্ত বিরাট নেয় না। অনেক ভাবনা চিন্তা করে এই জায়গায় এসেছে। কোনও ক্রিকেটার অবসর হঠাৎ করে নিয়ে ফেলে না। ভাবতে সময় নেয়। বিরাটও করেছে। তারপর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে একটা কথাই বলব, টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাটের অবসর ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা পাবে। ক্রিকেট বিশ্ব যখন বিরাটকে চাইছে, তখন নিজেকে সরিয়ে নিল। এটাও জানতে হয়। সেই কাজটা করে ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিল। তাই ওর সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহল মনে রাখবে। এখানেও বিরাটের আলাদা কীর্তি।
বিরাটের কথায় দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে বিরাট নিজে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, কেমন লাগল তাঁর ইনিংস। রাজকুমার বলেন, বিরাটের সব ম্যাচই দেখি। কখনও মাঠে বসে। কখনও আবার টিভির পর্দায়। কোনও ম্যাচ বাদ যায় না। ফোন করলে কথা বলি। জানতে চায় কোনও ভুল চোখে পড়ল কিনা। কী বলব! ওর সব ইনিংস আমার ভাল লাগে। ফিটনেসকে এমন জায়গয় নিয় গিয়েছিল যে কোনও ক্রিকেটর ওর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। তাই মনে হয়েছিল আরও কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যাবে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াল। ওর মনে হয়েছে তাই এই কাজ করেছে। আগেই বলেছি, ওর সব কাজকে স্যালুট করি। ক্রিকেট দুনিয়ায় যা করেছে, তা কেউ ভুলে যেতে পারবে না। তরুনদের কাছে একজন আদর্শ ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পেরেছিল। এটাও বলছি, কখন থামতে হয় সেটাও জানতে হয়। গোটা বিশ্ব চাইলেও ওর মনে হয়েছে এরপর টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই সরে দাঁড়িয়েছে। এটা তো ক্রিকেট দুনিয়ায় উদাহরন হয়ে থাকবে। বিরাট সব পারে, সেটা আরও একবার প্রমান করে দিল।







