উইম্বলডনে অঘটন ঘটেই চলেছে। প্রথম দিনের মতোই দ্বিতীয় দিনেও ঘটলো ইন্দ্রপতন। তৃতীয় বাছাই আমেরিকান জেসিকা পেগুলা প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নিলেন। তঁাকে হারালেন ইতালির এলিসাবেটা কোকসিয়ারেত্তো। ফল ৬-২ ও ৬-৩। অন্যদিকে চিনের পঞ্চম বাছাই ঝেং কিনওয়েন ডাবলস চ্যাম্পিয়ন ক্যাটেরিনা সিনিয়াকোভার কাছে হেরে গিয়েছেন।
পেগুলা এই মুহূর্তে উইম্বলডনে সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার হলেন। তঁার চেয়ে ১১৩ ধাপ নিচে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হার স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। খেলার সময় দেখা যাচ্ছিল তঁার ডান হঁাটুতে স্ট্র্যাপিং লাগানো আছে। তখন ভাবা হচ্ছিল, বোধহয় চোটের কারণে তিনি ঠিকমতো নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। খেলার শেষে তিনি সকলের ভুল ভেঙে দেন। জানিয়ে দেন, হঁাটুতে কোন চোট তেমন নেই যা আমাকে ভাল খেলতে বাধা দিয়েছে। মোটেই পারফরম্যান্স যে তুলে ধরতে পারেননি তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আমেরিকান মহিলা খেলোয়াড়। খেলা শেষ হয়ে যায় মাত্র ৫৮ মিনিটে।
“বছরের সবচেয়ে খারাপ খেলা যদি ধরা হয় তাহলে আজ তাই খেললাম। এত বিশ্রি খেলা এবছর আমি খেলিনি। এবছর আমি বহু ম্যাচ জিতেছি। মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটে যখন কোনও কিছু ঠিকঠাক হয়না।” বলেন পেগুলা। যখন এই কথাগুলো বলছেন আমেরিকান তারকা তখন আরও একটা অঘটন ঘটে গিয়েছে উইম্বলডনে। টানা তৃতীয়বার মহিলা ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন ঝেং হেরে বসেন ৮১তম স্থানে থাকা সিনিয়াকোভার কাছে। ফল ৭-৫, ৪-৬ ও ৬-১ সেটে। ঘাস কোর্টের ঐতিহ্য দেখিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রথম বাধা ঝেংয়ের চ্যালেঞ্জ শেষ করে দেন সিনিয়াকোভা। একই দিনের খেলায় অষ্টম বাছাই ইগা সোয়াটেক ৭-৫ ও ৬-১ সেটে হারিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার পোলিনা কুদেরমেতোভাকে। অন্যদিকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ক্রেজসিকোভা পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ রাখলেন।
প্রথম রাউন্ডে ছিটকে যাওয়ার জন্য পেগুলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। এখানে খেলতে আসার আগে তিনি জানিয়ে ছিলেন, এবার উইম্বলডন হবে তঁার লক্ষ্য। গত সপ্তাহে জার্মানির ব্যাড হোমবার্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তঁার এই কথাগুলো অনেকে বিশ্বাস করে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল আসল সময়ে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। সমস্যা হল, গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতায় তেমন সফল হতে পারছেন না। ব্যতিক্রম গতবার ইউএস ওপেন। যেখানে ফাইনালে পৌছে ছিলেন। যদিও ফাইনালে তিনি হেরে বসেন আরিনা সাবালেঙ্কার কাছে। তারপর বাকি তিনটে গ্র্যান্ড স্লামে দেখা গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিয়েছেন। ২০২০ সালে ফরাসি ওপেনের পর এত খারাপ ফল গ্র্যান্ড স্লামে কখনও তঁার হয়নি। “অনেক দিন পর কোনও গ্র্যান্ড স্লামে প্রথম রাউন্ডে হেরে গেলাম। কিছুদিন ধরে দেখছি, প্রতিটি প্রতিযোগিতায় আমার কাছে বড় বাধা হয়ে দঁাড়াচ্ছে প্রথম রাউন্ড। এটা খুবই হতাশাজনক।” ২৪ বছর বয়সী কোচিয়ারেত্তো ভুলের সুযোগ নিয়ে তার সদ্ব্যবহার করে গেলেন।







