জেমি-দিমি যেদিন একসঙ্গে তান্ডব চালাবেন সেদিন যে প্রতিপক্ষের অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনও উপায় নেই, সেটা শুক্রবারের যুবভারতীতে দেখিয়ে দিল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। দুর্বল ওড়িশা লড়াইটা করল শেষ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু মোহনবাগানকে আটকানোর জন্য তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। হ্যাটট্রিক করলেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। সেইসঙ্গে ম্যাচে চার গোলের মালিক তিনি। দিমি(Dimitri Petratos) হয়ত গোল পেলেন না, কিন্তু একের পর এক গোলের নেপথ্য কারিগড় তো তিনিই। ৫-১ গোলে ওড়িশা এফসিকে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা আরও মজবুত করে ফেলল লোবেরার(Sergio Lobera) সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
ম্যাচের ১৪ মিনিট থেকে এদিন তান্ডবটা শুরু করেন জেমি ম্যাকলরেন। সেইসঙ্গে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একের পর এক ডিফেন্স চেড়া পাস। জালে জড়াতে কী আর ভুল করেন জেমি ম্যাকলরেনের(Jamie Maclaren) মতো পোর খাওয়া ফুটবলার। রবসন রোবিনহো নেই। অনেকেই নানান আসঙ্কা করছিলেন। কিন্তু এই মোহনবাগান দল নিয়ে যে আশঙ্কার কোনও জায়গাই নেই তা ফের একবার দেখিয়ে দিবেন সের্জিও লোবেরা। ম্যাকলরেনরা তো ফর্মেই ছিল। লোবেরার ছোঁয়ায় দিমি এবার ফের অপ্রতিরোধ্য।
ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় দিমিত্রির দুরন্ত ব্যাকহিল। সেখান থেকে শুভাশিসের পাস। ম্যাকলরেনের প্রথম গোল। সেই শুরু। ওড়িশা বাহিনী তখন আক্রমণ ভুলে শুধুই নিজেদের ঘর বাঁচাতে ব্যস্ত। কখনও দিমি তো কখনও লিস্টন, কামিন্সদের একের পর এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ। দিমি-কামিন্স এবং ম্যাকলরেন ত্রয়ী এদিন যেন ঝড় তুলেছিল মাঠে আক্রমণের। কামিন্সও কয়েকটা সুযোগ মিস না করলে নিজের নামে এদিন গোল রাখতেই পারতেন। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ফের একটা গোল। এবারও সেই জেমি ম্যাকলরেন। আর নেপথ্যে সেই দিমিত্রি পেত্রাতোস। মাঝে অ্যালবার্তো রডরিগেজের একটি গোল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে জেমি ম্যাকলরেনের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ। মাঝে অবশ্য রহিম আলির গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল ওড়িশা।
বিরতির পর থেকে মোহনবাগান আরও ভয়ঙ্কর। পাস বাড়ানোর পাশাপাশি তখন দিমিত্রি নিজেও যেন গোল পেতে মরিয়া। একের পর এক পাস এবং শট, যদিও সেগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। ম্যাকলরেন, মনবীররাও বারবার বক্সের ভিতর ঢুকলে গোলের মুখে খুলতে পারছিলেন না। অন্যদিকে ওড়িশাও কিন্তু পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিল। মোহনবাগান রক্ষণে যে এখনও বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে সেটা অবশ্য এদিন ওড়িশা বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী ম্যাকলরেন, দিমি মাঠে থাকলে কোনও বাধাই কিছু না। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফের গোল মোহনবাগানের। এবারও গোলদাতা সেই ম্যাকলরেন। পাঁচ গোলের মধ্যে চার গোল একাই করলেন। এই মোহনবাগানকে রোখা এবার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে তা বেশ স্পষ্ট।







