সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত ব্যাটিং। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছে গেল ভারত। কিন্তু বিশ্রী বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু একটা রয়েই গেল। অন্তত ২৫৩ রান করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যখন মাত্র ৭ রানে জিততে হয়। সেটা কিন্তু ফাইনালের আগে গৌতম গম্ভীরকে একটা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফাইনালে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে টিম ইন্ডিয়া। ইডেনের পর ওয়াংখেড়েতেও ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছেন আবারও সঞ্জু স্যামসন।
টস জিতে এদিন ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। আর সেই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসনরা। অভিষেক এদিনও ব্যর্থ হলেও, সঞ্জুর ব্যাটে শুরু থেকেই ছিল বড় রানের ঝলক। জফরা আর্চার থেকে ওভারটন, স্যাম কারানদের কার্যত একাই বিধ্বস্ত করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে ফের পুরনো ছন্দে ছিলেন ঈশান কিষাণ। এই দুই তারকার হাত ধরে ৮ ওভারের মধ্যেই ১০০ রানের গন্ডীও টপকে গিয়েছিল ভারত।৯৭ রানের পার্টনারশিপও গড়েন সঞ্জু ও ঈশান কিষাণ। ঈশান ফেলেন ৩৯ রানে। আর ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে সঞ্জু যখন সাজঘরে ফিরছেন সেই সময় ভারতের রান ১৬০। বড় রান হওয়া তখনই নিশ্চিত। তাঁর গোটা ইনিংসটা সাজানো ৮টি চার ও সাতটি ছয় দিয়ে।
শেষ মুহূর্তে দুবে, হার্দিক এবং তিলক বর্মার ঝোরো ইনিংসে ভর করে ভারত পৌঁছয় ২৫৩ রানে। শুরুতেই অবশ্য ৩৮ রানের সল্ট এবং ব্রুককে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু ইংল্যান্ডও দমে যাওয়ার মোডে ছিল না। বরং অনেক বেশী আক্রমণাত্মক ছিল তারা। সেখানেই ভারতের স্পিন আক্রমণ চূড়ান্ত ব্যর্থ। সঙ্গে অর্শদীপ, হার্দিকদের ওভারেও ছিল রানের ফোয়ারা। বরুণ একাই দিয়েছিলেন ৪ ওভারে ৬৪ রান। অর্শদীপ দিয়েছিলেন ৫১ রান। অক্ষর পটেল ৩ ওভারে ৩৫ রান।
বেথেলের অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে একসময় তো চিন্তার ভাঁজও পড়ে গিয়েছিল ওয়াংখেড়েতে উপস্থিত সকলের। যদিও শেষপর্যন্ত জসপ্রীত বুমরার হাত ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয় ভারত। তিনি একটি উইকেট পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ৪ ওভারে বুমরাহ দিয়েছেন মাত্র ৩৩ রান। বিশেষ করে ১৭ তম ওভারটিতে তাঁর বোলিংয়েই ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। আর বাউন্ডারি লাইনে অক্ষরের দুরন্ত ক্যাচ এবং তিলক যদি স্যান কারাণের কঠিন ক্যাচটা না নিতেন তবে সমস্যা বাড়তেই পারত। যদিও শেষপর্যন্ত তা হয়নি। ৭ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় দল।







